কালীপুজোয় মানেই ‘বুড়ি মার চকলেট বোম’, কিন্তু কে এই ‘বুড়ি মা’ জানেন কি ?


বাংলা আপডেট নিউজ:  কয়েকদিন পেরলেই কালীপুজো। আর কালীপুজো মানেই শব্দবাজির আওয়াজ। শব্দবাজির মধ্যে অন্যতম প্রাচীন অথচ জনপ্রিয় ‘বুড়ি মার চকলেট বোম।’ যা শুধুই কালীপুজোতেই নয়, গর্জে উঠত ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচে, নতুন বছরকে স্বাগত জানাতেও। তবে ১৯৯৬ সাল থেকে শব্দবাজির তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। কিছুটা হলেও চাহিদা কমেছে ‘বুড়ি মা’র। কিন্তু কে এই ‘বুড়ি মা’ ? জানেন কি?

 

‘বুড়ি মা’র আসল নাম অন্নপূর্ণা দাস। জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার বাঙালি পরিবারে। দেশ ভাগের সময় ভিটে ছেড়ে তাঁকে চলে আসতে হয় পশ্চিম দিনাজপুর, যা বর্তমানে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ধলদিঘি উদ্বাস্তুদের পার্মানেন্ট লায়াবিলিটি ক্যাম্পে। স্বামী সুরেন্দ্রনাথ দাসের মৃত্যু পর তিন মেয়ে, এক ছেলেকে নিয়ে অন্নপূর্ণাদেবী আশ্রয় নেন পশ্চিমবঙ্গে। সংসারে অভাব, একলা মা অন্নপূর্ণা ছেলেমেয়েদের মানুষ করেন। উচ্ছে, ঝিঙে, পটল, মুলো বিক্রি করে, বিড়ি বেঁধে সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিয়েছেন মা অন্নপূর্ণা।

 

এরপর তিনি গঙ্গারামপুরে চলে যান। সেখানে তাঁর নিজের বিড়ি কারখানা গড়ে তোলেন। হাওড়ার বেলুড়ে মেয়ের বিয়ে দেন। পরে বেলুড়ের প্যারিমোহন মুখার্জি স্ট্রিটে বাড়ি ও একটি দোকান কিনে ফেলেন। বিড়ির ব্যবহার পাশাপাশি আলতা, সিঁদুরও বিক্রি করতে শুরু করেন। আস্তে আস্তে বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি, দোলের রং, কালীপুজোর বাজি অন্যের থেকে কিনে এনে বিক্রি করতেন। দিনের পর দিন পেরিয়ে যায়। বার্ধক্যের ছোয়া লাগে অন্নপূর্ণাদেবীকে। তাঁর দোকানে গিয়ে অনেকেই তাঁকে ‘বুড়িমা’ বলে সম্বোধন করতেন।

 

বাজার ধরে রাখতে অন্নপূর্ণাদেবী বাজি কেনা বাদ দিয়ে বাজির কারিগরদের নিয়ে আসেন। বাজি তৈরি করে বিক্রি করতে শুরু করলেন। সরকারের নির্দেশনামা নিয়ে তৈরি করলেন বাজি কারখানা। নাম দিলেন সকলের দেওয়া নাম ‘বুড়িমা’। নানা রকমের আতসবাজি বানানো শুরু করেন। যার মধ্যে ‘বুড়িমার চকলেট বোম’ বিখ্যাত। তিনি বুড়ি হয়ে গেলেও থেমে যাননি। অদম্য ইচ্ছা ও মনের জোরে তামিলনাড়ুর শিবকাশীতে একটি দেশলাই কারখানা তৈরি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *