আর্থিক অনটনে বন্ধ ছিল দুর্গাপূজা, ছেলের উদ্যোগে আবার চালু দুর্গাপূজা


নিজস্ব সংবাদদাতা; উত্তর দিনাজপুরঃ  বাংলাদেশের বাড়িতে দুর্গা পূজা হলেও ভারতে আসার পর আর্থিক অনটনে আর দুর্গাপূজা করা হয় নি। কিন্তু ছেলের উদ্যোগেই আবার, উত্তর দিনাজপুর জেলার  কালিয়াগঞ্জে দুর্গাপূজা চালু করতে বাধ্য হলেন কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়ার বাসিন্দা জীবন পাল।

 

ছোট বেলা থেকেই জীবনবাবুর ছেলে দীপঙ্কর পালে হাতের কাজে প্রবল আগ্রহ ছিল। পূর্বপুরুষেরা কোন দিনই মৃৎ শিল্পের সংগে যুক্ত ছিল না। কিন্তু দীপঙ্কর হাতের কাজের নেশায় দুর্গাপ্রতিমা কাজে হাত লাগান। জীবনবাবু পেশায় চটের বস্তা বিক্রি করে কোন ক্রমে সংসার চালান। তাই তার কাছে দুর্গাপূজা করা অসম্ভব ব্যাপার। গতবছর  সে গড়ে ফেলে এক ফুট দীর্ঘ একটি ছোট্ট দুর্গা প্রতিমা। ছোট থেকে কোথাও মূর্তি গড়ার তালিম নিয়েছে তা-ও নয়। তবুও কচি হাতে দুর্গা প্রতিমা গড়ে তাক লাগিয়েছে ছোট্ট দীপঙ্কর। প্রথম দিকে প্রতিমা তৈরীতে মা–বাবার আপত্তি থাকলেও  ছেলের জেদের কাছে  তারা হার মানেন। কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়ার  গা ঘেঁষে যে বস্তি এলাকার  বাসিন্দা জীবনবাবু  মা নিপাট গৃহবধূ। দীপঙ্কর এখন কালিয়াগঞ্জ সরলা সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ের  নবম শ্রেণির ছাত্র। ছোট থেকেই হাতের কাজের  নেশায়   গত বছর  সে গড়ে ফেলে এক ফুট দীর্ঘ একটি দুর্গা প্রতিমা।

 

 

 

 

একা দু্র্গা নয়, দুর্গার সঙ্গেই ছিল কার্তিক-গণেশ ও লক্ষ্মী-সরস্বতী। একটা আস্ত প্রতিমা তৈরী করার পর বাবা মা চরম সমস্যায় পড়েন। পুরোহিতের পরামর্শে সেই প্রতিমাকে বাড়িতেই পূজা দিতে হয়।বাবা জীবনবাবু মনে করেন পূর্বপুরুষের পূজা ছেলের হাত ধরেই বাড়িতে পূজা শুরু হয়েছে। গত বছরের ধারা ধরে রাখতে এবার একটি বড় প্রতিমা তৈরী করে ফেলেছে দীপঙ্কর। দীপঙ্কর জানায়,পড়াশোনার যাতে ক্ষতি না হয় তারজন্য পূজার কয়েকমাস আগে থেকে প্রতিমা তৈরীর কাজে হাত দিয়েছে। এখন প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছেন দীপঙ্কর।  দীপঙ্করের বাবা জীবন পাল বলেন  বলেন, “ছেলে পড়াশোনা বাদ দিয়ে মূর্তি গড়বে— এই বিষয়ে আমাদের আপত্তি ছিল। কিন্তু তার জেদের কাছে আমরা হার মানতে হয়েছে। তাই এখন আর তেমন আপত্তি তুলছেন না”।

 

 

 

 

কিন্তু মূর্তি গড়া হলে তার পুজোও করতে হয়। কিন্তু কীভাবে হবে সেই পুজো—  চিন্তায় পড়েন দীপঙ্করের পরিবারের সদস্যরা। তার হাতে তৈরি প্রতিমা পূজিত হচ্ছে  দেখে  খুব খুশি দীপঙ্কর। একজন মৃৎশিল্পী না হয়ে এত সুন্দর প্রতিমা তৈরী করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দীপঙ্কর। আগামীতে কলকাতার নামজাদা মণ্ডপের তার তৈরী প্রতিমা দেখা যাবে এমনই স্বপ্ন দেখছে।  নিজের প্রতিভার জোরে সেই স্বপ্ন পূরণ সম্ভব বলেই তার দৃঢ় বিশ্বাস।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *