নির্বাচন ঘোষণা পরেও খোলা হয়নি কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারি ব্যানার


১৫ মার্চ,মালদা : নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরেও মালদায় কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারি প্রচারের ব্যানার খোলা নিয়ে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে ব্যাপক তরজা শুরু হয়েছে । ওই দুই দলের গাফিলতি এবং জেলা প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করেছে সিপিএম এবং কংগ্রেস। তাঁদের অভিযোগ , লোকসভা নির্বাচন ঘোষণার ৭২ ঘণ্টা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কেন বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকারি বিজ্ঞাপন প্রচারের হোডিং, ফ্লেক্স সরিয়ে ফেলা হচ্ছে না। পুরো বিষয়টি নিয়ে জেলা সিপিএম নেতৃত্ব নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন করার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য , ১০ মার্চ সন্ধ্যায় ১৭ তম লোকসভা নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে। আর এই লোকসভা নির্বাচন ঘোষণার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোথাও কোথাও সরকারি বিজ্ঞাপন প্রচার ঢেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অধিকাংশ জায়গাতেই সেই প্রচার ফলাও করেই রয়েছে। জাতীয় সড়ক হোক বা রাজ্য সড়ক। সরকারি গাড়ি, দেওয়াল সবেতেই রয়েছে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন প্রচার। আর এতেই নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি । তৃণমূল কংগ্রেস যেমন বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচন বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। পাল্টা বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলেছে।

জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সুতীর্থ সাহা বলেন, নির্বাচন বিধি চালু হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনিকভাবে যা করা সেটি তারা করছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ছবি মানুষের মনের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার দরকার নেই। সেটি এমনিতেই মানুষের মনের মধ্যেই রয়েছে। কারণ, উন্নয়নের প্রচার এখন আর আমাদের দলের তরফ থেকে করতে হয় না। রাজ্যে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে । গ্রাম বাংলার মানুষ যেভাবে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন । তাতে মানুষের মনে এমনিতেই মুখ্যমন্ত্রী ছবি গেঁথে রয়েছে। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী অধিকাংশ জায়গাতেই মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া সহকারী প্রচার প্রশাসনের তরফে থেকে ঢেকে দিয়েছে। কোথাও আবার খুলে ফেলা হয়েছে। বরঞ্চ মোদি’র ছবি দেওয়া বহু সহকারী প্রচার, হোডিং এখনো খোলা হয় নি।‌ এই বিষয়টি নির্বাচন আধিকারিকদের নজরে আনা হয়েছে।

বিজিপি’র জেলা সভাপতি সঞ্জিত মিশ্র বলেন , নির্বাচন ঘোষণার আগে দলের অনেক পোস্টার-ব্যানার বিভিন্ন জায়গায় ছিল। আমরা তা খুলে দিয়েছি। কিন্তু এখনো বহু জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর কাটআউট, ফ্লেক্স , হোডিং দেওয়া সরকারি বিজ্ঞাপনের ছবি রয়েছে । প্রশাসন এগুলি খুলতে চরম উদাসীন মনোভাব দেখাচ্ছে । তারা তাদের খেয়াল মতো কাজ করছে । এই বিষয়টি প্রশাসনের সর্বদলীয় বৈঠকের আমরা তুলে ধরব। যেন দ্রুত মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া সরকারি এসব বিজ্ঞাপন খুলে ফেলা হয়।

সিপিএমের জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র বলেন, সমস্ত ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়ে যাচ্ছে । ১০ মার্চ নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে। ৭২ ঘন্টা সময় থাকে বিভিন্ন সরকারি হোডিং, ব্যানার, পোস্টার খুলে ফেলার । এতটা সময় পাওয়ার পরেও বিজেপি এবং তৃণমূল তাদের দলের সুপ্রিমোদের ছবি দেওয়া সরকারি-বেসরকারি প্রচারের ব্যানার পোস্টার খুলতে সক্ষম হল না। প্রশাসন দ্রুততার সাথে সরকারি বিজ্ঞাপন দেওয়া পোস্টার-ব্যানার গুলি খুলে ফেলুক। প্রশাসন অযথা সময় নষ্ট করছে। নির্বাচন আচরণবিধি নিয়ে ওই সব দলের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা নির্বাচন কমিশনের একটি অভিযোগ দ্রুত জানাচ্ছি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *